ভবিষ্যতের কারিগর
আবুল কাশেম মামুন
আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এই শিশুকে ভবিষ্যতের কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই তাদের জন্য সুশিক্ষা।
কিন্তু বর্তমান সমাজে দেখা যাচ্ছে শিশুরা নানাভাবে নির্যাতিত হচ্ছে। তাদের কুপিয়ে হত্যা করা হচ্ছে নানা কারণে। শিক্ষার সুযোগ না দিয়ে তাদের কে দিয়ে করা হচ্ছে নানা রকম অপরাধ।
কোন এক সবুজ শ্যামল গ্রামে বেড়ে উঠছে ১২ বছরের শিশু তুহিন। তার বাবা একজন দিন মজুর। তুহিন ক্লাস ফাইভে পড়ে। পড়ালেখার পাশাপাশি সে গ্রামের হাটে ফুল বিক্রি করে
শহর থেকে কিছু লোক এসেছে গ্রামে। তাদের লক্ষ্য গ্রামের শিশুদের শহরে নিয়ে লেখাপড়া করানো। তাদের মধ্যে একজন কুদ্দুস আলী
সে গেলো তুহিনের বাবার কাছে
কুদ্দুস :- আমি গ্রামে এসেছি গ্রামের এসেছি গ্রামের শিশুদের শহরে নিয়ে লেখাপড়া করাতে
তুহিনের বাবা :- এইটা তো ভালো উদ্দোগ শহরে গিয়ে গ্রামের ছেলেরা লেখা পড়া করে শিক্ষিত হবে
কুদ্দুস :- আপনার ছেলে তুহিন কে আমার সাথে নিয়ে যেতে চাই
তুহিনের বাবা :- কিন্তু শহরে গিয়ে সে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারবে তো
কুদ্দুস :- সে দায়িত্ব আমার...তুহিন কে ডাক দিন
তুহিনের বাবা :- তুহিন কইরে বাবা আমার এই দিকে আসো
তুহিন :- কি জন্য ডাকছো বাবা
তুহিনের বাবা :- শহর থেকে তোমার কুদ্দুস চাচ্চু এসেছেন তোমাকে শহরে নিয়ে লেখাপড়া করাতে তুমি কি যাবে
তুহিন :- তোমাকে একা পেলে যাবো কিভাবে
তুহিনের বাবা :- আমার জন্য চিন্তা করিও না মন দিয়ে লেখাপড়া করো
তুহিন :- ঠিক আছে
কুদ্দুস :- তাহলে আমি আসি ভাইসাহেব
তুহিনের বাবা :- আমার তুহিনের দিকে খেয়াল রাখবেন
কুদ্দুস :- সে চিন্তা করবেন না চলো বাবা তুহিন
তুহিন :- চলুন চাচা
কুদ্দুস আলী ও তুহিনের বাবা রহিম শেখ খুবই ভালো বন্ধু অভাবের তাড়নায় তুহিনের বাবা লেখাপড়া করতে পারেন নি
কুদ্দুস আলী শহরে নিয়ে আসলেন তুহিন কে নিয়ে গেলের তার আলিশান বাড়িতে
ডাকলেন কার স্ত্রী নার্গিস কে
কুদ্দুস :- নার্গিস শোনে যাও দেখো কাকে নিয়ে এসেছি
নার্গিস :- এই ছেলেটা কে ( রাগান্বিত স্বরে)
কুদ্দুস :- আমার বন্ধুর ছেলে তুহিন সে এখন থেকে এখানে থাকবে
নার্গিস :- নিজের ছেলেকে সময় দিতে পারো না আর নিয়ে এসেছো এক গেঁয়ো ভূত কে
কুদ্দুস :- এভাবে কথা বলছো কেন
নার্গিস :- এই ছেলে এখানে থাকতে পারবে না
কুদ্দুস :- এই ছেলে আর তোমার ছেলের মধ্যে পার্থক্য কোথায়
নার্গিস :- আমি এতো কিছু বুঝি না
এই কথা বলে রুমে চলে গেলেন নার্গিস
তুহিন :- চাচ্চু আমায় গ্রামে দিয়ে আসুন আমি শহরে থাকবো না ( কান্না বিজরিত কন্ঠে)
কুদ্দুস:- সব ঠিক হয়ে যাবে বাবা চিন্তা করো না (শান্তনার স্বরে)
মূলত কুদ্দুস আলা খনব ভালো মানুষ কিন্তু তাঁর স্ত্রী নার্গিস জেদী লোভী ও দজ্জ্বাল টাইপের মহিলা
রাতে খাবারের টেবিলে
কুদ্দুস :- তুহিন কই সে টেবিলে নেই কেন
নার্গিস :- এই সব দামী খাবারের যোগ্য সে নয় তাকে তিন দিনের বাসি খাবার দিয়ে সেটা খাইয়ে বারান্দায় শুইয়ে এসেছি
কুদ্দুস :- কাজটা ভালো করোনি ( রাগান্বিত স্বরে খাবার ফেলে চলে গেলেন )
সবাই ঘুমিয়ে যাবার পর নার্গিস সু কৌশলে তার হিরের একটি আন্টি তুহিনের ব্যাগে রেখে দেন যা কেউ টের পাননি
পরদিন সকালে কুদ্দুস আলী অফিসে চলে যাবার পর নার্গিস কাজের মেয়ে কুলসুম কে ডাকলো
নার্গিস :- এই কুলসুম এই দিকে আয় তো
কুলসুম :- জ্বী আম্মা বলেন
নার্গিস :- আমার আন্টি টা হারিয়ে ফেলেছি দেখতো কোথায় পাইলে কিনা
কুলসুম :- আম্মা সেটা একটু আগে ঘর ঝাড়ু দেয়ার সময় তুহিনের হাতে পেয়েছি
নার্গিস :-চল ..আমার সাথে
তুহিনের পাশে গিয়ে
নার্গিস :- এই আন্টি তুই কই পাইলে
তুহিন :- চাচী আমার ব্যাগের মাঝে
নার্গিস :- তুই চুরি করে নিলে এটা (ধমকের স্বরে)
তুহিন :- না চাচী না আমি চোর নয়
নার্গিস :- তোর কোন কথা শুনবো না
রান্না ঘর থেকে গরম পানি নিয়ে ঢেলে দেয়া হলো তুহিনের শরীরে
তুহিন :- আল্লাহ বাঁচাও (চিৎকার দিয়ে)
নার্গিস :- দেখি তোরে কে বাঁচায়
কুলসুম :- আম্মা একি করলেন সে পুড়ে যাবে তো (কান্না বিজরিত কন্ঠে)
নার্গিস :- বেশী কথা বললে তোর গায়ে গরম পানি ঢেলে দিবো
তুহিন বাবা বাবা বলে কাঁদতে লাগলো কিছুক্ষণ পর সে জ্ঞান হারিয়ে ফেললো
নার্গিস বস্তায় ভরে তুহিন কে ড্রেনে ফেলে দিলেন কাজের মেয়ে কুলসুমের কিু করার থাকলো না
বিকালে বাসায় এলেন কুদ্দুস আলী
কুদ্দুস :- কুলসুম কেন তুই কান্না কাটি করছো
কুলসুম :- আম্মা তুহিন কে গরম পানি দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে পাশের ড্রেনে ফেলে দিয়েছেন (কান্না বিজরিত কন্ঠে)
কুদ্দুস :- তোর আম্মা কই..? ( আবেগের স্বরে)
কুলসুম :- উনার বাবার বাড়ি চলে গেলেন
কুদ্দুস :- চল..আমার সাথে
কুদ্দুস আলী তুহিনের পুড়ানো ঝলসানো দেহ ড্রেন থেকে সেটা হাসপাতালে নিয়ে গেলেন ডাক্তার তুহিন কে মৃত ঘোষণা করলো
তারপর কুদ্দুস আলী থানায় নিয়ে ময়না তদন্ত করে নার্গিসের বিরুদ্ধে মামলা করলেন
লাশ নিয়ে যাওয়া হলো তুহিনের বাড়িতে
তুহিনের বাবা :- ভাই এটা কার লাশ..?
কুদ্দুস :- আপনার ছেলে তুহিনের ( কান্না বিজরিত কন্ঠে
তুহিন :- তুহিন রে (চিৎকার দিয়ে)
সাথে সাথে হার্ট এ্যাটাক করে তৱহিনের বাবা মারা গেলেন তাদের দাফন হলো সব কিছুর ব্যবস্থা করলেন কুদ্দুস আলী
নার্গিসের ফাঁসির হুকুম হলো শিশু নির্যাতন আইনে এর কিছু দিন পর নার্গিসের ফাঁসি হলো
তাতেও কি তুহিন ফিরে আসবে
এভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে আজকের শিশু আগামী ভবিষ্যৎ কারিগর কে
আসুন সবাই মিলে শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি
No comments:
Post a Comment