গল্পটিতে নতুন কিছু পাবেন এই আশা রাখি কোন ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন
ব্রেকআপ এবং অতপর.....
আবুল কাশেম মামুন
অহনা :- আমার পথ ছাড়ো
সাগর :- বুঝার চেষ্টা করো প্লিজ রিতুর সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই সে আমার কাজিন
অহনা :- আমি কিছু বুঝি না সে তোমার কাজিন হলে আমার সামনে ফোনে তার সাথে কথা বললে না কেন..?
সাগর :- না মানে...
অহনা :- কোন কথা শুনব না তোমার আজ থেকে আমার আর তোমার মাঝে কোন সম্পর্ক নেই .. সো .ব্রেকআপ....
কথাগুলো বলে অশ্রুসিক্ত নয়নে অহনা চলে গেল একটুও পিছু ফিরে থাকালো না । সাগর নিরলে বসে রইল অবাক নয়নে
রিতু :- সাগর ভাইয়া ডাক্তার কি বলছে .?
সাগর :- ইন্ডিয়া যেতে হবে চিকিৎকার জন্য
রিতু :- কত টাকা লাগবে ..?
সাগর :- পাঁচ লক্ষ তো লাগবেই
রিতু :- এতো টাকা পাবো কোথায় ..?
সাগর :- চিন্তা করিস না একটা ব্যবস্থা হবেই
রিতুর মা ( সাগরের ফুফ) হার্টে সমস্যা। অপারেশন লাগবে। কিন্তু সাগর ও রিতুর মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে সে খরচ বহন করা অনেক কষ্টসাধ্য বেপার ।
সাগর চিন্তা করতে লাগলো কিভাবে টাকা যোগা করা যায়। সে একটা সরকারি অফিসে অফিস সহকারী পদে চাকরি করে। এদিকে রিতুর পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না। সবকিছু মিলিয়ে সাগরের উপর গুরু দায়িত্ব।
সাগর :- ডাক্তার সাহেব একটা কথা বলি..?
ডাক্তার :- জ্বী বলেন..?
সাগর :- ফুফুর চিকিৎকার টাকা তো যোগাড় করতে পারি নাই। আমার একটা হেল্প করবেন...?
ডাক্তার :- বলুন
সাগর :- আমাদের দেশে অনেক লোকের তো কিডনীতে সমস্যা আছে নতুন কিডনী সংস্থাপন করতে হয় অনেকের আমি চিন্তা করতেছি আমার একটি কিডনী বিক্রি করে দিবো তাদের কাছে
ডাক্তার :- মাথা খারাপ আপনার..
সাগর :- বুঝার চেষ্টা করুন সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করে
ডাক্তার :- কিন্তু
সাগর :- কোন কিন্তু নয় তবে কাউকে এ কথা বলতে পারবেন না
ডাক্তার :- ঠিক আছে
অবশেষে সাগর তার কিডনী বিক্রি করে তার ফুফুর চিকিৎসা করালো যা কেউ জানতে পারেনি
তিনমাস পর
কলিং বেলের রিং
রিতু :- অহনা
অহনা :- জ্বী বাট তুমি
রিতু :- আমি রিতু..
অহনা :- কি মনে করে আমার বাসায়
রিতু :- সাগর ভাই লাইফ সাপোর্টে ( বলে কেঁদে ফেলল)
অহনা :- মানে..!!! কি হয়েছে সাগরের
রিতু :- যেতে যেতে বলছি
রিতু ডাক্তাকেক কাছ থেকেই সাগরের কিডনী বিক্রির খবর জানতে পারলো। আর যে কিডনীটি ছিলো সেটা আজ নষ্ট। রিতু অহনাকে সব ঘটা খুলে বলল...ঘটনাটি শুনে অহনা নিজেকে খুব অপরাধী ভাবলো..
ডাক্তার :- সুস্থ হওয়ার একটা উপায় আছে..কেউ যদি নিজ ইচ্ছায় কিডনী দান করে সেটা প্রতিস্থাপন করা যায় তাহলে বাঁচার সম্ভাবনা আছে বাকী সব আল্লাহর হাতে
অহনা :- আমি কিডনী দিবো
রিতু :- কি বলছো তুমি
অহনা :- আমি ঠিকই বলছি চলুন ডাক্তার সাহেব
ডাক্তার :- চলুন
অহনার একটি কিডনী প্রতিস্থাপন করার পর সাগর সুস্থ হয়ে উঠতে লাগলো
সাগর :- রিতু..
রিতু :- বলো ভাইয়া..
সাগর :- কে আমায় কিডনী দিলো
রিতু :- অহনা
সাগর :- মানে.!! সে কোথায় ?
রিতু :- পাশের রুমে..
সাগর এক দৌড়ে চলে গেল অহনার পাশে
সাগর :- অহনা
অহনা :- সাগর
সাগর : - কেন তুমি এই কাজ করলে
অহনা :- নিজেকে বড্ড অপরাধী মনে হয়েছিলো
সাগর :- আমি তো তা চাইনি
অহনা :- সেদিন কেন আমায় সব কথা বলো নি..?
সাগর :- চাইনি তোমায় চিন্তায় রাখতে
অহনা :- সুখে পাশে ছিলাম দুঃখে পাশে রাখো নি কেন?
সাগর :- যদি তুমায় হারিয়ে ফেলি দুঃখের মাঝে
অহনা :- আর কখনো এমন করবে না
সাগর :- কখনো না
অহনা :- সাক্ষী কি
সাগর :- ( আঙুলে আন্টি পড়িয়ে) অনেক ভালবাসি তোমায়
অহনা :- আমিও ..
সাগর :- চলো ফুফুর কাছে যাই
অহনা :- চলো..
No comments:
Post a Comment