Friday, 19 February 2016

জানি দেখা হবেই (অপেক্ষার প্রহর শেষ)

আমার লেখা অপেক্ষা গল্পের পরের অংশ  গল্পটি বুঝার স্বার্থে অপেক্ষা গল্পের অংশটি যুক্ত করা হয়েছে গল্পের মধ্যে

জানি দেখা হবেই   (অপেক্ষার প্রহর শেষ)

লেখক :- আবুল কাশেম মামুন

প্রায় তিন বছর পর মৌমিতা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে।  তিন বছর আগে সে একটা দুর্ঘটনায় মানষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে।  সুস্থ্য জীবনে ফেরার পর তমালের সাথে দেখা হচ্ছে না।  মৌমিতা তাকে খুঁজতেছে কিন্তু কোথায় যে তাকে খুজে পাচ্ছে না .........

তমাল বর্তমানে একটা ব্যাংকে চাকরি করছে।  সেও মৌমিতার সুস্থ্যতা কামনা করে অপেক্ষা করছে...

ঘটনাক্রমে একটা রেষ্টুরেন্টে মৌমিতার সাথে দেখা হয়ে গেল...

মৌমিতা :- তমাল....
তমাল :- মৌমিতা তুমি ..
মৌমিতা :- এতোদিন কোথায় ছিলে.?
তমাল :- এইতো ঢাকায়ই আছি..আর তোমার সুস্থ্যতা কামনা করছি
মৌমিতা :- কি এসব বলো তোমরা.? আমি তো সুস্থ্য আছি
তমাল :- যাই হোক কি খাবে বলো.?
মৌমিতা :- কিছু না চলো না রমনা পার্কে সেই আগের জায়গায় যেখানে আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল....
তমাল :- চলো..

তারপর  তারা দুইজন চলে গেল তাদের যে যায়গায় তিন  বছর আগে দেখা হয়েছিল...

তিন বছর আগের ঘটনা......

তমাল প্রতিদিন বিকালে সাইকেল চালায়। সে অনেক জায়গায় সাইকেল চালিয়ে বেড়ায় । একদিন বিকালে সে সাইকেল চালাচ্ছে হাতিরঝিল এলাকায় । সেখানে অনেক লোক এসেছে। এরই মধ্যে একটি মেয়েকে তার খুবই ভাল লেগেছে। সে মেয়েটির সম্পর্কে জানলো
মেয়েটির নাম মৌমিতা। খুবই লাজুক টাইপের মেয়ে। একা একা থাকতে পছন্দ করে। তমাল মৌমিতার সাথে গিয়ে কথা বলল

তমাল :- আপনার সাথে কিছু সময় কথা বলতে পারব?
মৌমিতা :- কি কথা...?
তমাল :- আপনার সাথে আমি বন্ধুত্ব করতে চাই ..?
মৌমিতা :- আমি অপরিচিত কারো সাথে বন্ধুত্ব করি না।
তমাল তার পরিচয় মৌমিতা কে দিল। মৌমিতা তার পরিচয় দিয়ে বলল........                        মৌমিতা :- আপনার সাথে বন্ধুত্ব করতে পারি কিন্তু ভালবাসতে পারব না।
তমাল :- ঠিক আছে।

এভাবে তাদের বন্ধুত্ব চলতে লাগল। নিয়মিত তাদের দেখা হয়। কিন্তু তারা দুজন দুজনকে ভালবাসে ফেলেছে। কিন্তু কেউ তাদের বলছে না হঠাৎ একদিন তমাল মৌমিতাকে বলল.......
তমাল :- আমি যদি বলি আমি তোমাকে ভালবাসি তুমি কি রাগ করবে..?
মৌমিতা :- বেশি দেরি করে বললে রাগ করতে পারি ।

তারপর তাদের ভালবাসা গভীর হতে লাগল। কিন্তু কিছুদিন যাবত তমাল মৌমিতা দেখা পাচ্ছে না। তার মোবাইল ফোন বন্ধ।

১৪ জানুয়ারী........

তমাল মৌমিতার বাসার কলিং বেল চাপলো। মৌমিতা দরজা খুলে দিল। তমাল একগুচ্ছ লাল গোলাপ মৌমিতার হাতে দিয়ে বলল......
তমাল :- Happy Birth Day
মৌমিতা :- কে আপনি ?
তমাল :- আমাকে চিনতে পারছো না।
মৌমিতা :- আমি আপনা চিনি না।

এই বলে মৌমিতা দরজা লাগিয়ে দিল। তমাল মৌমিতার মায়ের সাথে কথা বলে জানতে পারলো মৌমিতা মানষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। কাউকে চিনতে পারছে।

তিন বছর পর পর দেখা হওয়ার পর তারা রমনা পার্কে যে জায়গায় দেখা হয়েছিল সেখা গিয়ে বসল..........

তমাল :- বিয়ে করছো..?
মৌমিতা :- তোমাকে ছাড়া কাউকে করব না
তমাল :- আমি তো বিয়ে করে ফেলেছি
মৌমিতা :- (রাগান্বিত হয়ে) তুমি কি বলছো পাগল হইছো নাকি?
তমাল :- হুম...বউ পাগল
মৌমিতা :- তাহলে আমার সাথে কেন এসেছো..?
তমাল :- ভালবাসি তোমায়
মৌমিতা :- তোমার বউ জানে..
তমাল :- সে তো পাশে বসা...
মৌমিতা :- মানে...!!!
তমাল :- বউ টা হলে তুমি
মৌমিতা :- বিয়ে না করেই বউ ডাকা শুরু....
তাহলে আগে যে বললে বিয়ে করে ফেলেছো
তমাল :- তোমার রাগ কতটুকু দেখার জন্য মিথ্যে বললাম
মৌমিতা :- আর এই রকম করবে না শুনো আমি জানতাম তোমার সাথে দেখা হবে
তমাল :- অনেক অপেক্ষা করেছি তোমার জন্য
মৌমিতা :- আমারও বিশ্বাস ছিলো তোমার সাথে দেখা হবে
তমাল :- আসলে প্রিয়জনের জন্য অপেক্ষা করার মাঝে আলাদা একটা সুখ আছে আর অপেক্ষার প্রহর শেষ হওয়ার পর যখন দেখা  হয় তখন অনাবিল আনন্দ বিরাজ করে
মৌমিতা :- তাই নাকি...!
তমাল :- হুম..

এর কিছুদিন পর তাদের বিয়ে হয়ে গেল ।
আসলে সত্যিকারের ভালবাসা কখনো হারিয়ে যায় না

No comments: