গল্পটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের উপর ভিত্তি করে ঐতিহাসিক পটভূমির উপর লেখা । গল্পটিতে তথ্যগত কিছু ভুল থাকতে পারে । আমি শুধু ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট টিকে সবার সামনে তুলে ধরতে চেয়েছি । চরিত্রগুলো তুলে ধরার ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন থাকার চেষ্টা করেছি। তবুও, চরিত্রগুলো বিশ্লেষণে ছোটখাটো কিছু ভুল থাকলে ক্ষমা করে দিবেন ।
ফেরা হলো না খোঁকার
লেখক :- আবুল কাশেম মামুন
২০ ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ সাল
পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামীকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে মিছিল বের করবে রাজু ও তার বন্ধুরা রাষ্ট্রভাষা বাংলা অাদায়ের জন্য। ভাষা আন্দোলনে যাওয়ার জন্য মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছে রাজু
মা :- খোঁকা তুই না গেলে হয় না
রাজু :- তুমি চিন্তা করো না মা দেখো আমার কিছু হবে না
মা :- শুনেছি মিলেটরিরা ১৪৪ ধারা জারী করেছে লাগামহীন ভাবে মানুষ মারছে
রাজু :- ওরা আমার মায়ের মুখের ভাষা বাংলা কেড়ে নিতে চায় তা কি হয় মা..?
মা :- আমার খুব চিন্তা হচ্ছে বাবা
রাজু :- আমার জন্য কোন চিন্তা করো না নিজের খেয়াল রেখো মা আর ঠিক মতো ঔষুধ সেবন করিও আর আমি তো খুব শিঘ্রই ফিরে আসছি মা
মা :- ভাল থাকিছ বাবা
মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রাজু রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে রওয়ানা করলো । তার চোঁখে মুখে একটাই দাবী রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠা করা।
২১শে ফেব্রুয়ারী, ১৯৫২……
সকাল ১০টার দিকে রাজু তার বন্ধুদের নিয়ে মিলিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাম্পাসের সামনে । সবাই মিছিল সাজাতে শুরু করে । আস্তে আস্তে মিছিল বড় হতে থাকে । পুরো মিছিল জুড়ে ” রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই ” , ” উর্দু ভাষা নিপাত যাক ” সহ আরও অনেক প্ল্যাকার্ড । পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা জুড়ে উত্তেজনার স্পর্শ ।
রাজু মিছিলের একেবারে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে যায় । মিছিল শুরু হতে হতে প্রায় ১২টা বেজে যায় । মিছিলের মাঝে একটা ছন্দ থাকে । সামনের ৩-৪ টি সারি চিৎকার করে বলে ” রাষ্ট্রভাষা রাষ্ট্রভাষা।” তারপর বাকিরা একসাথে চিৎকার করে বলে ওঠে, ” বাংলা চাই, বাংলা চাই।” রাজু ছন্দে তাল মেলাতে থাকে ।
মিছিল আস্তে আস্তে এগিয়ে যায় । সবার মাঝেই অসম্ভব দৃঢ়তা কাজ করতে শুরু করে । ১৪৪ ধারা ভাঙ্গতে সবাই হয়ে ওঠে বদ্ধপরিকর।
মিছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে আসতেই কিছু মিলিটারি জিপ এসে থামে । মিলিটারিরা টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে। মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় । মিলিটারির সাথে ছাত্রদের সংঘর্ষ বাঁধে । শুরু হয় ভাষার জন্যে যুদ্ধ ।
রাজু কিছু বুঝে ওঠার আগেই তীক্ষ্ণ একটা বেদনা তার সারাদেহে ছড়িয়ে পড়ে । রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে রাজু । নিস্তেজ হয়ে পড়ে তার দেহ । দুপুরবেলা কড়া রোদে পিচঢালা রাস্তায় লাল রঙের মোটা একটা রেখা ছড়িয়ে পড়ে ।
এদিকে রাজুর মা খোঁকার ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে থাকেন। সবাই ফিরে আসলেও তার খোঁকার এখনো ফেরা হয়নি। সন্তান হারানোর বেদনায় কাতর মার বিশ্বাস তাঁর সন্তান ফিরে আসবে তাঁর মাঝে
No comments:
Post a Comment