প্রতিদিনের মত ফেইসবুকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট
চেক করছে তুশি। সে দেখে নতুন একটা ফ্রেন্ড
রিকুয়েস্ট এসেছে নাম রুবায়াত তুশার।
তুশি তার প্রোফাইলে ঢুকে ইনফরমেশন চেক
করে। তার খুব ভালো লাগে প্রোফাইল পড়ে। সে
রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করে।
<<<<<<বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের টি-২০
ম্যাচ>>>>>>
তুশি খুব খুশি আজ। কারন আজ যে বাংলার
টাইগাররা জিতে গেছে। সে ফেইসবুকে ঢুকেই
একটা পোষ্ট দেয়।
"আজ খুব খুশির দিন"।
তার নিজউ ফিড congratulation পোষ্টে ভরে
গেছে। সে তার এক ফ্রেন্ডের পোষ্টে কমেন্ট
করে :-
"আমরাতো জিতবাই। আমরাইতো বেস্ট।"
কিছুক্ষণ পর সে নোটিফিকেশন দেখে একটু অবাক
হয়। সে কিনা রুবায়াত তুশারের পোষ্টে কমেন্ট
করছে। সে ভাবতে থাকে "আমি কি সত্যি কমেন্ট
করছি!"
সে দেখে সে সত্যি কমেন্ট করছে। পরে সে একটু
লজ্জা পেয়ে তুশারের কমেন্টটা লাইক করে
চলে আসে।
তুশি এইবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। আজ
তার কলেজের রেজাল্ট দিবে। সে যেন চিন্তায়
অস্থির হয়ে উঠেছে আজ যে কি হবে।
- তোমাদের কলেজের রেজাল্ট কবে দিবে?
ম্যাসেজটা তুশার দিয়েছে।
তুশি রিপ্লাই দেয়:
- আজকে
-ও। তোমার কোন কলেজে পড়ার ইচ্ছে?
- রাজুকে
- তুমি না রাজশাহীর মেয়ে?
- এখন ঢাকায় চলে এসেছি।
এভাবে শুরু হয় তুশি আর তুশারের বন্ধত্ব। তাদের
প্রায়ই ঝগড়া হতো। তবে তা ছিল অনেক মধুর
- এই তুষাঁড় তুমি কি ফোকলা?
- ধুর তেরি!!! তুষাঁড় বলবা না। আর আমার দাঁত
আছে।
- বলব বলব হাজার বার বলব। কই তোমার তো
দাঁত দেখতে পাই না।
- আমার দাঁত ছাড়া হাঁসিই বেশি সুন্দর ।
- তার মানে তুমি কি বলতে চাও, আমার হাঁসি
সুন্দর না? আমার হাঁসি বেশি সুন্দর।
এভাবে প্রতিদিনই কিছু না কিছু নিয়ে তাদের
ঝগড়া হতো। তবে তারা দু'জনেই ঝগড়া করে খুব
মজা পেত। তুশার গল্প লিখত আর তুশারের
গল্পগুলো তুশির খুব ভালো লাগত। আজ ৬ মাস
তারা একে অপরের সাথে ঝগড়া করছে। মনের সব
কথা শেয়ার করছে।
তুশি এর মধ্যেই তুশারের উপর দুর্বল হয়ে পড়েছে।
সে ঠিক করছে আজ সে তুশারকে বলে দিবে। সে
তুশারের জন্য একটা ভয়েজ ম্যাসেজ বানায়। সে
ঠিক করে ম্যাসেজটা তুষারকে দিয়েই সে
কন্ট্যাক্ট অফ করে দিবে। যদি তুশার ওকে
ভালবাসে, তবে তুশার যে করেই হোক আর সাথে
কন্ট্যাক্ট করবে। সে ম্যাসেজটা দিয়ে এফবি
ডিএক্টিভ করে দেয়। সে অপেক্ষায় আছে তুশার
একবার তাকে ফোন দিবে। এক বার তার সাথে
কন্ট্যাক্ট করবে।
প্রায় ২মাস হল। এখনো তুশারের কোন খোঁজ
নেই। তুশি ভেবে নেয় তুশার তাকে ভালোবাসে
না। সে অনেক কষ্ট পায়।
জানালার ধারে বসে বৃষ্টি দেখছে তুশি।
জানালার ধারে বসে হাত মেলে বৃষ্টির পানি
ছুঁতে খুব ভালো লাগে তার। হঠাৎ একটা কল
আসে তার ফোনে:
- হ্যালো আসসালামু আলাইকুম ।
- তুমি তুশি না?
- জি। আপনি কে বলছেন?
- বলতো আমি কে?
- আপনি কে আমি কিভাবে বলব! আপনি ফোন
দিয়েছেন আপনি বলেন আপনি কে?
- তোমার ওপর আমার খুব রাগ হইছে।
রীতিমত রেগে গেল তুশি চেনে না জানেনা
একটা ছেলে ফোন দিয়ে বলে রাগ হইছে।
- দেখেন আপনি কে আমি জানি না। আর কখনোই
আমাকে ফোন দিবেন না।
ফোন কেটে দিল তুশি। ছেলেটা প্রায় ২০ বার
ফোন দিল তুশি একবারও ফোন ধরেনি। অবশেষে
একটা ম্যাসেজ এল তুশির ফোনে "আমি তুশার"।
ম্যাসেজটা দেখে তুশি নিজের চোখকে বিশ্বাস
করতে পারছে না। তুশার !! তুশার আবার ফোন
দেয়।
- এই বার চিনলেন? মুচকি একটা হাঁসি দিয়ে তুশি
বলে
- হ্যাঁ পারছি
- আমার না একসিডেন্ট হয়ে ছিল
তুশারকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই তুশি বলল
- কি? কীভাবে?
- আরে বাবা বলছি তো।
- হুম বল
- কলেজ থেকে আসার সময় একটা পিঁপড়ার সাথে
একসিডেন্ট করছি
- উফ ! তুমি শুধরবে না।
- তুমি এইটা কেন করলে? তুমি জান তোমার
নাম্বার পেতে আমার কত কষ্ট করতে হয়েছে? চুপ
করে তুশারের কথা গুলো শুনছিল তুশি
- এই যে বোবা কিছু বল!!!
- কি বলব?
- আমি তোমাকে ভালোবাসি। তুমি বোঝ না??
এতক্ষনে তুশির গালগুলো যেন লজ্জায় লাল
হয়ে গেছে। মাথা নিচু করে একটু মুচকি হাসি
দিয়ে বলল
- আমিও তোমাকে ভালোবাসি
আমরা সবাই বাংলাদেশি ।আর বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা সব সময় স্বপ্ন দেখি।কারন বাংলাদেশ আমাদের মায়ের দেশ।তাই বতমান সমাজে দেখা যাচ্ছে এদেশের মানুষ বাংলাদেশকে প্রতিদিন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা সবাই জানি একদিন লাল সবুজের বাংলাদেশ করবে বিশ্বজয়।
Tuesday, 15 September 2015
একটি প্রেমের কাহিনী
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment