‘প্রশ্ন যদি হবে ফাঁস, পড়ব কেন বারো মাস’,
‘সুচিকিৎসা কি যাবে ঘরে, প্রশ্ন পেলে
বাজারদরে’, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে দেশ যাবে
রসাতলে’—এমন নানা স্লোগানে আজ শনিবার
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়
বিক্ষোভ করেছেন মেডিকেল কলেজের ভর্তি-
পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষার দিন সকালে
ও আগের রাতে ফেসবুকে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র
ফাঁস হয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে তা
মিলে গেছে। তাঁরা এই পরীক্ষা বাতিল করে
নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
আজ সকালে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের
সামনে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন।
আগামীকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবসহ
দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভর্তি পরীক্ষার
ফলাফল স্থগিত, প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের
শাস্তি ও পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে সংবাদ
সম্মেলনসহ নানা কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন
ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (শিক্ষা) এ
বি এম আবদুল হান্নান বলেছেন, পরীক্ষার পর
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তোলা যুক্তিযুক্ত
নয়। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হয়েছে।
আজ প্রথম আলো কার্যালয়ে ভর্তি-ইচ্ছুক
শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা ফোন করে
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ করেন। রংপুরের
একজন পরীক্ষার্থী বলেন, ‘পরীক্ষার আগের
রাতে আমাকে বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন করে
প্রশ্ন লাগবে কি না জানতে চাওয়া হচ্ছিল।
আমি তাদের কথায় কান দিইনি। কিন্তু পরীক্ষা
কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পর একজন অভিভাবক
তাঁর হাতে থাকা একটি কাগজ থেকে একের পর
এক প্রশ্ন পড়ে যেতে থাকেন এবং জানতে চান
প্রশ্নগুলো এসেছে কি না। প্রশ্নগুলো মিলে যায়
এবং তিনি নিজে আমাকে বলেন তিনি ১২ লাখ
টাকায় প্রশ্ন কিনেছেন।’
ঢাকা থেকে এক অভিভাবক বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসের
জন্য শুধু তদন্ত কমিটি হয়। কমিটি করেই দায়িত্ব
শেষ? শাস্তি দিতে হবে। আমরা সাধারণ মানুষ।
ছেলেমেয়েদের জন্য রাস্তায় নামতে পারব না।
যারা জালিয়াতি করে মেডিকেল কলেজে ঢুকবে
তারা দেশকে কি দেবে?’
রাজশাহীতে মেডিকেল কলেজের প্রধান
ফটকের সামনের রাস্তায় আজ দুপুর ১২টায়
বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পুরো
রাস্তা দখল করে পরীক্ষা বাতিলের দাবি
জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় পুলিশ
এসে তাঁদের রাস্তার এক পাশে সরিয়ে দেয়। পরে
তাঁরা সড়ক বিভাজকের ওপর অবস্থান নিয়ে
বিক্ষোভ করেন।
বিক্ষোভে ভর্তিচ্ছু-শিক্ষার্থীরা বলেন,
পরীক্ষার আগের রাত থেকে পর্যায়ক্রমে
বিভিন্ন সময়ে ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে।
এমনকি পরীক্ষার দিন সকালেও প্রশ্নপত্র ফাঁস
হয়েছে। যাঁরা পড়াশোনা করা ছাত্র, যাঁরা
রাতদিন পরিশ্রম করে প্রস্তুতি নিয়েছেন, তাঁরা
প্রশ্নপত্রের পেছনে ছোটেন না। তাঁরা
পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এখন এসব
মেধাবী শিক্ষার্থীই ভর্তির সুযোগ থেকে
বঞ্চিত হবেন।
বরিশাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বেলা দেড়টায়
সংবাদ সম্মেলন করেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা।
তাঁরা বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের সংবাদ বিভিন্ন
গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ঢাকায়
প্রশ্নপত্রসহ র্যাবের হাতে আটক হয়েছেন
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সহকারী
পরিচালকসহ কয়েকজন কর্মচারী। এ অবস্থায়
পুনরায় পরীক্ষা না নেওয়ার বিকল্প নেই। সংবাদ
সম্মেলন শেষে শিক্ষার্থীরা নগরের অশ্বিনী
কুমার হল চত্বরে মানববন্ধন করেন। পরে সেখান
থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নগরের গুরুত্বপূর্ণ
সড়ক প্রদক্ষিণ করেন তাঁরা।
একই দাবিতে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সামনে
এবং ময়মনসিংহে ফিরোজ জাহাঙ্গীর চত্বরে
মানববন্ধন হয়।
(প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছে রাজশাহী
ও বরিশাল অফিস)
আমরা সবাই বাংলাদেশি ।আর বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা সব সময় স্বপ্ন দেখি।কারন বাংলাদেশ আমাদের মায়ের দেশ।তাই বতমান সমাজে দেখা যাচ্ছে এদেশের মানুষ বাংলাদেশকে প্রতিদিন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা সবাই জানি একদিন লাল সবুজের বাংলাদেশ করবে বিশ্বজয়।
Sunday, 20 September 2015
‘সুচিকিৎসা কি যাবে ঘরে, প্রশ্ন পেলে বাজারদরে?’
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment